বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতা সত্ত্বেও স্থিতিশীল ভারতের অ্যালুমিনিয়াম খাত

যুক্তরাষ্ট্র অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ালেও চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রাইমারি অ্যালুমিনিয়াম শিল্প খাত লাভজনক অবস্থান ধরে রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্র অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ালেও চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রাইমারি অ্যালুমিনিয়াম শিল্প খাত লাভজনক অবস্থান ধরে রাখবে। সম্প্রতি এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আর্থিক বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান ক্রিসিল রেটিংস। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও ভারতের এ খাতটি স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। খবর বিজনেস লাইন।

যুক্তরাষ্ট্র অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা ভারতের জন্য আগের ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ তুলনায় অনেক বেশি। তবে ভারতের রফতানির মাত্র ৫ শতাংশেরও কম যুক্তরাষ্ট্রে যায় বলে এ শুল্ক বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র সব দেশের অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করেছে, যেখানে ভারতের জন্য আগে এ হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। তবে ভারতের মোট রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের হিস্যা ৫ শতাংশেরও কম। তাই এ শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব কম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্রিসিল রেটিংস জানিয়েছে, দক্ষ উৎপাদন পদ্ধতি, কম খরচ এবং বিশ্ববাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যের কারণে ভারতীয় কোম্পানিগুলো টনপ্রতি অ্যালুমিনিয়ামে গড়ে ৬৫০ ডলারের বেশি লাভ ধরে রাখতে পারবে।

ভারতের প্রায় ৫০ শতাংশ প্রাইমারি অ্যালুমিনিয়াম প্রতি বছর রফতানি হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে বাধা তৈরি হওয়ায় অন্য বড় রফতানিকারক দেশগুলো তাদের পণ্য নতুন বাজারে পাঠাতে পারে। এতে ভারতের প্রচলিত রফতানি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

ক্রিসিলের পরিচালক অঙ্কিত হাখু বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে বিশ্ববাজারে অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। তবে সরবরাহ বেশি হওয়ার আশঙ্কা কম। কারণ ভারতসহ অন্যান্য শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশে অ্যালুমিনিয়াম কারখানাগুলোর ব্যবহার এখনো ৯০ শতাংশের বেশি।’

যদিও দাম ওঠানামা করলে কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রিসিল রেটিংস। কারণ দেশটির অ্যালুমিনিয়ামের দাম সরাসরি লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের (এলএমই) দামের ওপর নির্ভর করে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণার পর গত মার্চে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের দাম ২ হাজার ৭০০ ডলার থেকে নেমে এপ্রিলে ২ হাজার ৩৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে ক্রিসিল রেটিংসের পূর্বাভাস বলছে, চলতি অর্থবছরে গড় দাম ২ হাজার ৩০০ ডলারের ওপরে থাকবে, যা ধাতুটির বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনবে।

ক্রিসিল রেটিংসের সহযোগী পরিচালক অঙ্কুশ ত্যাগী বলেন, ‘কম খরচে উৎপাদন ও স্থিতিশীল চাহিদার কারণে ভারতীয় অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদকরা বৈশ্বিক বাণিজ্য চাপের মধ্যেও ভালোভাবে টিকে থাকতে পারবে।’

আরও